ADS
ব্রেকিং নিউজঃ
হোম / জাতীয় / বিস্তারিত
ADS

দেশে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: র‌্যাব মহাপরিচালক

৫ জুন ২০২১, ৬:১৫:০৯

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (ডিজি) মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের র‌্যাব গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ জাতীয় চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘কিশোর অপরাধ বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে র‌্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রতিযোগিতায় ঢাকার শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজকে পরাজিত করে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক লিটন হায়দার, আব্দুল্লাহ তুহিন, কাওসার সোহেলী, প্রাক্তন বিতার্কিক মেহেদী হাসান তামিম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-২ এর পরিচালক লে. কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম এবং র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা রয়েছে। ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহ অপরাধ দমনে কাজ করছে। দেশে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না।’

তিনি বলেন, টিকটকসহ কয়েকটি ডিজিটাল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এজন্য ক্ষতিকর অ্যাপসগুলো বন্ধ করার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পর্যালোচনা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপরাধে জড়ানোদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। তবে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে প্রযুক্তি বর্জন করা নয় বরং ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমাদের জীবনমান উন্নয়নে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিশোর অপরাধ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। এরমধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে, টিকটকসহ বিভিন্ন কারণও রয়েছে। আজকের এই অবস্থার দায় সবার। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে এই কিশোর অপরাধ কমানো সম্ভব।’

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কোনো অপরাধ সংঘটনের পর আসামি ধরা হয়নি এর নজির র‍্যাবে নেই। সকল অপরাধের পর আসামি ধরতে র‍্যাব সদা তৎপর। র‍্যাবের হেডকোয়ার্টার্স থেকে সরাসরি আসামি ধরার জন্য কাজ করে থাকে এবং হেডকোয়ার্টার্স ও ব্যাটালিয়ন কে, কার আগে আসামি ধরবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। ঠিক অনুরূপভাবে বাংলাদেশ পুলিশের জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই রয়েছে তাদের মধ্যে আসামি ধরার জন্য ইতিবাচক একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলেও দাবি করেন র‍্যাব ডিজি।’

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষত পরিবারে সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের নজরদারি বাড়াতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ হ্রাস করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। অনেক দেশের চাইতে আমরা পার ক্যাপিটাল ইনকামে এগিয়ে রয়েছি। নারী উন্নয়নে আমরা এগিয়ে রয়েছি। ইন্টারনেটে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে দেশে আইন রয়েছে। সেই আইনে অপরাধীদের গ্রেফতারের পর বিচার হচ্ছে।’

কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো রাজনৈতিক চাপ আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চাপ নিয়ে কাজ করি না। এসব চাপ আমার কাছে আসেও না। একেক সময় একেক অপরাধ দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারণে আবার সে অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। একটা সময় ইভটিজিং বেড়ে গিয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এখন নিয়ন্ত্রণে। জঙ্গিবাদ এখন নিয়ন্ত্রণে। আইনের বাইরে ও আইনের সজ্ঞায় যে কেউ অপরাধী হলে র‍্যাব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব আগেও কুণ্ঠিত হয়নি আগামীতেও হবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিশোর অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে এই অপরাধের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিতর্কিত অ্যাপস টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারকা বানিয়ে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নআয়ের পরিবারের মেয়েদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফাঁদে ফেলছে এসব অপরাধীরা। এমন কি সুকৌশলে এসব মেয়েদের ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে টিকটক, লাইকি, ইমু, ফেসবুক, স্ট্রিমকার, মাইস্পেস, হাইফাইভ, বাদু ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে। তৈরি হচ্ছে টিকটক হৃদয়, অপু, সজীব, নয়ন বন্ড, সুজন ফাইটারের মতো অপরাধীরা। ফাইভ স্টার, ডিসকো বয়েজ, সেভেন স্টার, বিগ বস-এর মতো কিশোর গ্যাংরা অতিষ্ঠ করে তুলছে পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষের জীবন। এসব কিশোর গ্যাংরা ইভটিজিং, যৌন নিপীড়ন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডে পর্যন্তও জড়িয়ে পড়ছে। ফেসবুকভিত্তিক এসব গ্যাং কালচার প্রতিরোধ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে টিকটক বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশেও এই বিতর্কিত টিকটক এর কার্যক্রম বন্ধ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। তবে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের ঘাটতি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের ফলে সন্তানের প্রতি অনাদর, সন্তানকে সময় না দেয়া, মাদকের সহজলভ্যতা, সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: