ADS
হেডলাইন
◈ পরীমনির ঘটনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমেও তোলপাড়! ◈ সিনোফার্মের টিকাদান শুরু ◈ মধ্যরাতে ধানমন্ডিতে সড়কে প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের ◈ জানা গেল শ্রাবন্তীর নয়া প্রেমিকের পরিচয় ◈ না ফেরার দেশে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ খ্যাত কিংবদন্তি মিলখা সিং ◈ পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি শিক্ষকদের ◈ পেরুতে বাস উল্টে নিহত ২৭ ◈ সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব চায় বিএনপি ◈ রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে আরও ১০ মৃত্যু ◈ রদ্রিগেজের গোলে কোপায় প্রথম জয় আর্জেন্টিনার ◈ সারা দেশে চীনের টিকা সিনোফার্ম প্রয়োগ শুরু হচ্ছে আজ ◈ শনিবার পুনরায় শুরু হচ্ছে করোনার টিকা প্রয়োগ ◈ ত্ব-হাসহ সঙ্গীদের রাতেই আদালতে নিল পুলিশ ◈ হার্টে ব্লক নাজমুলের, ক্ষমা চাইলেন সবার কাছে ◈ টিকার সার্বজনীন প্রাপ্তি নিশ্চিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান ◈ একইদিন মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল ◈ বায়িং হাউসের নামে মাদকের ল্যাব, উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা ◈ সাত পুলিশকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ◈ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কামরুল মনির আর নেই ◈ ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
হোম / জাতীয় / বিস্তারিত
ADS

হত্যার পর সাবেক এমপি আউয়ালকে ফোনে বলা হয় ‘স্যার ফিনিশড’

২০ মে ২০২১, ৭:১৬:৪৫

রাজধানীর পল্লবীতে জমি নিয়ে বিরোধে সাহিনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাব। হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে বসে। আর সাহিনুদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিতের পর কিলার সুমন আউয়ালকে ফোন করে বলেন ‘স্যার ফিনিশড’।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের এলিট ফোর্সটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাজধানীর পল্লবীতে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এক বিঘার বেশি পরিমাণ জমি কেনার চেষ্টার করছিল সাবেক এমপি আউয়ালের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘হ্যাভিলি প্রপার্টি’। নিহত সাহিনুদ্দিন ও তার স্বজনরা এই জমির মালিক। কম টাকায় জমি কিনতে না পারায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানায় র‌্যাব।

কমান্ডার মঈন বলেন, ১৬ মে দুপুরে নিজ সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দিনকে চাপাতি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা ছিল র‌্যাব তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। ১৯ মে চাঁদপুর থেকে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী এম এ আউয়ালকে ভৈরব থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ১৯ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম বাবুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের আরেকটি দল। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

কমান্ডার মঈন জানান, হত্যার ঘটনার চার পাঁচদিন আগে এম এ আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে মোহাম্মদ তাহের ও সুমন এই হত্যার পরিকল্পনা করে। মাঠ পর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুমনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর সুমন সক্রিয়ভাবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে। এসময় বেশ কয়েকজন কিলিং মিশনে জড়িত ছিল।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সুমন, বাবুসহ কয়েকজন একটা মিটিং করে। এরপর ঘটনার দিন তারা সাহিনুদ্দিনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়। এসময় সাহিনুদ্দিন তার সন্তান মাশরাফিকে নিয়ে সেখানে যায়। মীমাংসার কথা বলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসী সুমন, মানিক, হাসান, ইকবালসহ ১০/১২ জন সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথম ধারোলো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় সুমন। এরপর মানিকসহ বাকিরা কোপাতে থাকে। মনির হাটু এবং মানিক উপর্যুপরি সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করতে থাকে। এসময় বাবুসহ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ আসামি বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিতে থাকে। পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে পুরো ঘটনাটি শেষ হয়। ঘটনা শেষে সুমনসহ বাকিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এসময় সুমন এক নম্বর আসামি আউয়লকে মোবাইলে জানায় ‘স্যার ফিনিশড’।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেয়। ১৭ মে মামলার ১৩ নম্বর আসামি দিপুকে র‌্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় সোপর্দ করে। গ্রেপ্তার মূল আসামি এম এ আউয়াল একজন জমি ব্যবসায়ী। তার ছত্রছায়ায় সুমন জমি দখল, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত এবং প্রতিমাসে মাসোহারা বাবদ ১০-১২ হাজার টাকা নিত। তাছাড়া বিভিন্ন কাজেও টাক নিত। এই সন্ত্রাসী দল রিকশা টোকেন বাণিজ্য, মাদক, জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এম এ আউয়াল তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে লক্ষীপুর-১ আসন থেকে তরিকত ফেডারেশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করায় দলের গঠনতন্ত্রের ২৪ এর উপধারা অনুযায়ী ২০১৮ সালে আউয়ালকে দল থেকে বহিষ্কার করে তরিকত ফেডারেশন। পরের বছরই ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন আউয়াল। বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: