ADS
ব্রেকিং নিউজঃ
ADS

হত্যা মামলায় সাবেক এমপি আউয়াল গ্রেপ্তার

২০ মে ২০২১, ১২:০৩:৪০

রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক এমপি এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূলপরিকল্পনাকারী ছিলেন। আজ বুধবার ভোরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জমিজমার বিরোধে গত ১৬ মে দুপুরে মো. সাহিনুদ্দিনকে সন্তানের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যা মামলার ১নং আসামি ছিলেন এম এ আউয়াল। তাকে ভৈরবে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবিষয়ে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাবেক এমপি আউয়াল তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তাকে দলকে থেকে বহিষ্কার করা হলে পরের বছর ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন। বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে লক্ষীপুর-১ আসন থেকে তরিকত ফেডারেশনের হয়ে সংসদ সদস্য হন এম. এ. আউয়াল। দলীয় গঠনতন্ত্রের ২৪ এর উপধারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে গেছে, মিরপুর-১২ নম্বরের সিরামিকের মধ্যে এক বিঘার বেশি জমির মালিক ছিলেন নিহত যুবক মো. সাহিনুদ্দিন ও তার স্বজনেরা। জমিটির কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছিলেন সাবেক এমপি আউয়ালের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘হ্যাভিলি প্রপার্টি’। জমির মালিক একসময় তার জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড দেন। এসময় জমিটি কেনার জন্য আউয়ালের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কথাবার্তাও হয়। কিন্তু দামে বনিবনা না হওয়ায় জমির মালিক তা বিক্রি করেননি। পরবর্তী সময়ে জায়গাটি আউয়াল জোর করে দখল করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিহত সাহিনুদ্দিন ও তার ভাই মাইনুদ্দিনকে প্রায়ই হুমকি-ধামকি দিচ্ছিলেন। সবশেষ তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও দেন। সেই মামলায় সাহিনুদ্দিন ও তার ভাই মাইনুদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। গত ২৭ রমজান তারা জামিনের মুক্ত হন। ঘটনার দিন (১৬ মে) জমির মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি আউয়ালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি কম মূল্যে এই জমি কিনে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন জমির মালিকের সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। এই ঘটনার পরই সন্ত্রাসীরা খুন করে সাহিনুদ্দিনকে।

নিহতের মা আকলিমা গতরাতে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জমির বিরোধেই তার ছেলেকে হত্যা করেছেন আউয়াল। তিনি (আউয়াল) চেয়েছিলেন, ছেলে হত্যা করলে জমি দখল করা তাদের জন্য সহজ হবে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই নারী বলেন, ‘ছোট ছেলেকে হত্যার পর এখন বড় ছেলে ও আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যাতে আউয়ালের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিই।’

আকলিমা জানান, পৈত্রিকভাবে মিরপুর সিরামিকসের ভেতরে এক বিঘার বেশি পরিমাণ জমির মালিক ছিলেন তার শ্বশুর। পরবর্তী সময়ে মালিক হন তার স্বামী জৈনুদ্দিন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেরাই জমি দেখভাল করছিলেন। আর আউয়াল কম টাকায় এই জমি কিনে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তার দুই ছেলের নামে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, মাদক মামলা দেয়া হয়। সবকিছুর তিনি সাবেক সাংসদকে দায়ী করেন।

আকলিমা বলেন, ‘গত বছর আউয়াল সাহেব ১০ কাঠা জমি কিনতে আমাদেরকে তার অফিসে ডেকে নিয়েছিলেন। তখন আমরা বলেছিলাম, জমির ন্যায্য দান দেন, জমি দিয়ে দেব। কিন্তু তিনি সব সময় গায়ের জোরে আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে চেষ্টা করেন। যতটুকু জানি, আউয়াল সাহেব টাকা দিয়ে ২০/২৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পালেন। যারা সব সময় আমরা জমি দখল করতে মরিয়া ছিল। আমার স্বামী মারা যাবার আগে তার নামেও সাতটা মামলা দিয়েছিল আউয়ালের লোকজন।’ এসময় তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।

জানা গেছে, ঘটনার দিন জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে ডেকে নিয়ে যান সুমন ও টিটু নামে দুজন। পরে পল্লবীর সেকশন-১২ ব্লক-ডি এর ১২ নম্বর এলাকার একটি গ্যারেজে ঢুকিয়ে তাকে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই দৃশ্য কেউ একজন মোবাইলে ধারণ করে। যা দেখে মনে হবে- সেই বিশ্বজিৎতের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি।

এই মামলায় এজাহারনামীয় ২০ আসামি হলেন- সাবেক এমপি আউয়াল, আবু তাহের, মো. সুমন, মো. মুরাদ, মো. মানিক, মো. মনির, মো. শফিক, মো. টিটু, আব্দুর রাজ্জাক, মো. শফিক, কামরুল, কিবরিয়া, মো. দিপু, মরন আলী, লিটন, আবুল, সুমন ওরফে নাটা সুমন, কালু ওরফে কালা বাবু, কালু ওরফে কালা বাবু, বাবু ওরফে বাইট্টা বাবু এবং বাবু ওরফে ইয়াবা বাবু।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: